Barishal

বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান,ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য অনন্য ভ্রমণ গাইড

বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান।

বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বরিশাল বিভাগ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদীমাতৃক জীবনধারা এবং সমৃদ্ধ ইতিহাসের এক অনন্য মেলবন্ধন।

এখানে রয়েছে গুটিয়া মসজিদ, দুর্গাসাগর দিঘী, ভাসমান পেয়ারা বাগান ও কীর্তনখোলা নদীর মতো অসংখ্য ঐতিহাসিক ও আকর্ষণীয় স্থান। প্রতিটি স্থানের নিজস্ব ইতিহাস ও সৌন্দর্য ভ্রমণপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। তাই যারা বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও প্রকৃতি একসঙ্গে উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান হতে পারে অন্যতম সেরা গন্তব্য।

১. কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত: (Kuakata Sea Beach)

বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত হলো কুয়াকাটা। যা “সাগরকন্যা” নামে পরিচিত। এটি বাংলাদেশ তথা বিশ্বর এমন এক সমুদ্র সৈকত যেখান থেকে একই স্থানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই উপভোগ যায়। বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান কুয়াকাটার বালুকাবেলা, শান্ত ঢেউ ও দিগন্তজোড়া আকাশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

 

অবস্থান: পটুয়াখালী জেলা, বরিশাল বিভাগ।
যাতায়াত: বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান বরিশাল থেকে বাসযোগে প্রায় ৪ ঘণ্টা সময় লাগে।

ভ্রমণের সেরা সময়: নভেম্বর থেকে মার্চ মাস।

 

২. ভাসমান পেয়ারা বাগান (Floating Guava Garden)

বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান বিশ্বের একমাত্র ভাসমান কৃষি ব্যবস্থা অথবা ভাসমান পেয়ারা বাগান দেখতে হলে যেতে হবে বরিশালের বানারীপাড়া ও স্বাদর ইউনিয়নেবর্ষাকালে এই কৃষিনির্ভর অঞ্চলটি পরিণত হয় পানির রাজ্যে। বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান যেখানে নৌকায় ভেসে ভেসে কৃষকরা পেয়ারা, শাকসবজি ও মশলা চাষ করেন। বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান পানির ওপর ভাসমান বাগানগুলো এক মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য তৈরি করে, যা ভ্রমনপ্রেমিদের মন খুব সহজে জয় করে নেয়। 

অবস্থান: বানারীপাড়া উপজেলা, বরিশাল জেলা।
যাতায়াত: বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান বরিশাল শহর থেকে গাড়িতে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লাগে।
ভ্রমণের সেরা সময়: জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত।

৩. গুটিয়া মসজিদ: (Baitul Aman Jame Masjid)

বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান বরিশালের গুটিয়া মসজিদ, যার আনুষ্ঠানিক নাম বেতাগী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। এর অনন্য স্থাপত্যশৈলী, সুন্দর পরিবেশ এবং আলোকসজ্জা ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে হয়ে ওঠে এক অবিস্বরণীয় অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশের সবচেয়ে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদগুলোর মধ্যে এটি একটি।

বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান এটি বরিশাল শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে উজিরপুর উপজেলার গুটিয়া গ্রামে অবস্থিত। ২০০৩ সালে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম লিটন। পুরো মসজিদ কমপ্লেক্সটি ১৪ একর জায়গা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে রয়েছে মসজিদ, বাগান, লেক, এবং শান্তিপূর্ণ এক মনোরম পরিবেশ।

গুটিয়া মসজিদ

স্থাপত্য ও নকশা।

গুটিয়া মসজিদের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যে, এটি দূর থেকেও পর্যটকদের নজর কাড়ে।

  • প্রধান গম্বুজটি  সাদা রঙ্গের এবং তার চারপাশে ছোট ছোট গম্বুজ রয়েছে।
  • বিশাল আকৃতির  মিনারটি ১৪০ ফুট উঁচু। এটি বরিশালের আকাশরেখায় এক দৃষ্টিনন্দন ছোঁয়া দেয়।
  • মসজিদের ভেতরের দেয়াল মার্বেল পাথরে নির্মিত এবং সুন্দর আরবি ক্যালিগ্রাফিতে সজ্জিত।
  • রাতে পুরো কমপ্লেক্স আলোকিত হয়ে উঠে। যা এটিকে এক স্বপ্নীল দৃশ্যপটে রূপ দেয়।

পরিবেশ ও দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা:

মসজিদের চারপাশে রয়েছে প্রাকিৃতিক সবুজ বাগান, ফুলের সৌরভ এবং একটি বড় লেক। এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশ শুধু ধর্মীয় উপাসনার জন্য নয়, বরং মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পেতেও অনেক ভ্রমনপ্রেমিরা এখানে আসে। বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জায় মসজিদের চারপাশের পরিবেশ রূপ নেয় এক অপূর্ব সৌন্দর্যে। ফটোগ্রাফারদের জন্য এটি এক আদর্শ স্থান।

নামাজ ও ধর্মীয় কার্যক্রম:

প্রতিদিন এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়। শুক্রবারে জুমার সময় মুসল্লিদের উপস্থিতিতে মসজিদটি কানায় কানায় ভরে যায় । নামাজ শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের নিয়ে মহান প্রভুর নিকট বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। রমজান মাসে ও ঈদের সময় এখানে বিশেষ আয়োজন করা হয়, যা স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের মানুষকেও আকর্ষণ করে।

কিভাবে যাবেন:

বরিশাল শহর থেকে গুটিয়া মসজিদে যেতে চাইলে প্রথমে উজিরপুর অভিমুখে যেতে হবে।
নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস, প্রাইভেট কার বা সিএনজিতে সহজেই যাওয়া যায়।
সময় লাগে প্রায় ৩০–৪০ মিনিট।

অবস্থান: গুটিয়া, উজিরপুর উপজেলা, বরিশাল জেলা।
 ভ্রমণের সময়: বিকেল ও সন্ধ্যা সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

ভ্রমণ টিপস:

সন্ধ্যার সময় ভ্রমণ করলে আলোকসজ্জা উপভোগ করা যায়।
ছবি তুলতে চাইলে ক্যামেরা সঙ্গে রাখো।
মসজিদে প্রবেশের আগে পোশাক ও আচরণে শালীনতা বজায় রাখো।
প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট লাগে না।

৪. দূর্গাসাগর দিঘী (Durga Sagar Dighi)

নিম্মে দূর্গাসাগর দিঘী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।

দূর্গাসাগর দিঘীর পরিচিতি:

দুর্গাসাগর দীঘি বরিশাল জেলার অন্যতম বৃহত্তম ও প্রাচীন জলাশয়। বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান এটি বরিশাল শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে মাধবপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত।

দিঘীটি স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের কাছে শুধু একটি জলাশয় নয়, বরং এক ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক। বর্ষাকালে ও শীতে এখানে হাজারো অতিথি পাখি এসে জমায়েত হয়, যা এই স্থানটিকে এক জীবন্ত প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যে পরিণত করে।

ইতিহাস ও পটভূমি:

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী আঠারো শতকের দিকে রাজা জয়চন্দ্র তাঁর স্ত্রী দুর্গামতির অনুরোধে এই দীঘিটি খনন করেন। স্ত্রী দুর্গামতির নামে নামকরণ করা হয় “দুর্গাসাগর”।

এই দীঘির আয়তন প্রায় ২৪ একর, যার মাঝখানে রয়েছে একটি ছোট দ্বীপ। বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান ধারণা করা হয়, এই দ্বীপে পূর্বে রাজপরিবারের ব্যবহারের জন্য একটি বিশ্রামাগার ছিল।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য:

দুর্গাসাগর দীঘির চারপাশে রয়েছে ঘনঘন গাছপালা, সবুজ ঘাস আর নীরব প্রকৃতি। সকালবেলা সূর্যের আলো পানির উপর পড়লে সোনালি রঙে ঝিলমিল করে পুরো দীঘি। 

বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান শীতকালে এখানে হাজারো অতিথি পাখি আসে। যেমন বক, বালিহাঁস, বাটান, গার্ডন ইত্যাদি। পাখিদের কলকাকলিতে এই দীঘি যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। অনেকে এখানে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক করতে আসে।

 

অবস্থান:

মাধবপাশা ইউনিয়ন, বরিশাল সদর, বরিশাল বিভাগ

যেভাবে যাবেন:

  • বরিশাল শহর থেকে অটো, রিকশা বা সিএনজি করে যেতে পারেন।
  • সময় লাগবে প্রায় ৩০–৪০ মিনিট।
  • শহর থেকে মাধবপাশাগামী লোকাল বাসও পাওয়া যায়।

ভ্রমণের সেরা সময়:

  • শীতকাল:  নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। তখন অথিথি পাখির মৌসুম এবং সবচেয়ে সুন্দর সময়।
  • বর্ষাকাল: পানির স্বচ্ছতা ও সবুজ পরিবেশে দীঘির চারপাশ হয়ে ওঠে মনোমুগ্ধকর।

ভ্রমণ টিপস:

 বিকেলের সময় সবচেয়ে ভালো সৌন্দর্য  উপভোগ করা যায়। সূর্যাস্তের প্রতিফলন অসাধারণ।
 ক্যামেরা বা ড্রোন নিলে দারুণ দৃশ্য ধারণ করা যায়।
 পিকনিকের সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
 বৃষ্টির সময় ভ্রমণে সাবধানতা অবলম্বন করুন।

স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন:

দীঘির আশেপাশের এলাকাগুলো মূলত কৃষিনির্ভর। স্থানীয়রা পাখিদের আগমনের মৌসুমে ছোট ছোট দোকান বসান, যা পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এখানে গেলে সহজেই বুঝতে পারবেন বরিশালের মানুষের অতিথিপরায়ণতা ও প্রকৃতির সঙ্গে তাদের মেলবন্ধন।

৫. লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি (Lakutia Zamindar Bari)

বরিশালের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম এক অনন্য প্রতীক এই জমিদার বাড়ি। প্রায় তিন শতাব্দীপুরনো এই স্থাপত্যে রয়েছে পুরোনো বাংলার রাজকীয় আবহ। এখানে গেলে মনে হবে আপনি সময়ের ঘূর্ণি পেরিয়ে অতীতে চলে গেছেন।

অবস্থান: কাশিপুর ইউনিয়ন, বরিশাল সদর।

৬. কীর্তনখোলা নদী ভ্রমণ: (Kirtankhola River Cruise)

কীর্তনখোলা নদীর পরিচিতি:

বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান কীর্তনখোলা নদীকে বলা হয় বরিশাল জেলার প্রাণ। এটি বরিশাল শহরের উত্তর দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নদীর সঙ্গে মিশেছে। প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী দক্ষিণ বাংলার মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বরিশাল শহরের লঞ্চঘাট, পণ্যবাহী জেটি এবং  আশেপাশে অসংখ্য বসতি।

নদীর ইতিহাস ও নামের উৎপত্তি:

কীর্তনখোলা নদীর নামের পেছনে রয়েছে আকর্ষণীয় ইতিহাস। ধারণা করা হয়, প্রাচীনকালে এই নদীর তীরে হিন্দু ধর্মাবলীদের নিয়মিত কীর্তন (ধর্মীয় সংগীত) হতো।  আর সেই থেকেই নদীর নাম হয় “কীর্তনখোলা”। বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান ইতিহাসবিদদের মতে, বরিশাল অঞ্চলে নদীই ছিল যোগাযোগ ও বাণিজ্যের মূল মাধ্যম।  আর কীর্তনখোলা সেই পথের কেন্দ্রবিন্দু।

কীর্তখোলা নদী

নদী ও বরিশালের জীবন:

বরিশালের মানুষ নদীনির্ভর।বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান  কীর্তনখোলা নদী এখানে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সম্পদ নয়; এটি বরিশালের জীবনের প্রতিদিনের অংশ।

  • এখানকার মানুষ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে।
  • কৃষিপণ্যের পরিবহন হয় নদীপথে।
  • বরিশাল লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে লঞ্চ চলাচল করে। নদীর তীরে বিকেলের সময় মানুষ হাঁটতে বের হয়। কেউ আসে ছবি তুলতে, আবার কেউ আসে নদীর হাওয়া উপভোগ করতে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য:

সন্ধ্যার সময় কীর্তনখোলা নদীর সৌন্দর্য অন্যরকম হয়ে ওঠে। সূর্যাস্তের আলো পানিতে প্রতিফলিত হয়ে পুরো নদীকে সোনালি রঙ্গে রাঙ্গিয়ে দেয়। নদীতে ভেসে চলা নৌকা, লঞ্চের আলো আর দূরের গাছের ছায়া মিলে তৈরি করে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যপট। বর্ষাকালে নদী ফুলে-ফেঁপে ওঠে, তখন এটি দেখার মতো অপূর্ব লাগে।

অবস্থান ও যেভাবে যাবেন:

 অবস্থান: বরিশাল সদর, বরিশাল বিভাগ

যেভাবে যাবেন:

  • বরিশাল শহরের কেন্দ্র থেকে হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে।
  • ঢাকা থেকে লঞ্চে আসলে বরিশাল টার্মিনালে নামলেই নদীটি চোখে পড়বে।
  • শহরের বিভিন্ন ঘাট (লঞ্চঘাট, সদরঘাট, বা ব্রিজঘাট) থেকে সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

ভ্রমণ আকর্ষণ ও করণীয়

  • সন্ধ্যার সময় নদীর পাড়ে বসে সূর্যাস্ত দেখা।
  • নৌকাভ্রমণ বা ছোট স্পিডবোটে নদী ভ্রমণ করা।
  • ফটোগ্রাফি প্রেমীদের জন্য আদর্শ জায়গা।
  • স্থানীয় মাছ ভাজা, চা ও ফুচকার দোকান উপভোগ করা।

 কীর্তনখোলা নদীর অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব:

    এই নদী বরিশালের অর্থনীতির প্রাণশক্তি।

  • পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম।
  • নদীপাড়ের মাছ বাজারগুলো স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বরিশালের লোকসংগীত, কবিতা ও গল্পে বারবার এই নদীর নাম উঠে আসে।
কীর্তনখোলা বরিশালবাসীর কাছে শুধু নদী নয় বরং এটি তাদের জীবনের অংশ এবং তাদের গর্ব।

উপসংহার:

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বরিশাল বিভাগ শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক হিসেবেও অনন্য। এখানে রয়েছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা, দুর্গাসাগর দীঘির শান্ত জলরাশি, গুটিয়া মসজিদের মনোমুগ্ধকর স্থাপত্য, ভাসমান পেয়ারা বাগানের অনন্য কৃষি ব্যবস্থা, লাকুটিয়া জমিদার বাড়ির প্রাচীন ঐতিহ্য এবং কীর্তনখোলা নদীর জীবন্ত সংস্কৃতি। প্রকৃতি ও ইতিহাসপ্রেমী ভ্রমণকারীদের জন্য বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা মানে একসঙ্গে সৌন্দর্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতি অনুভব করা। আপনি যদি নতুন ভ্রমণ গন্তব্য খুঁজে থাকেন, তাহলে বরিশালের এই ঐতিহাসিক স্থানগুলো হতে পারে আপনার পরবর্তী অনন্য অভিজ্ঞতার ঠিকানা।

 

jamal159

Recent Posts

বরিশালের ভাসমান পেয়ারা বাগান,প্রাকৃতিক ও পর্যটন স্বর্গ

বরিশালের পেয়ারা বাগান সম্পর্কে জানুন। এটি বাংলাদেশের এক অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিদর্শন। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত…

56 years ago

Kuakata travel guide, complete information on how to get there, eating and sightseeing.

Detailed information about Kuakata is located on the southwest coast of Bangladesh on the shores…

56 years ago